সিলেট ১২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

এনআইডি চালুর মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রবাসী দিবস উদযাপিত

যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চালুর মধ্য দিয়ে ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৩’ উদযাপন করেছে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন।

দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার দূতাবাসে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, বিভিন্ন কাউন্সিলের মেয়র ও কাউন্সিলররা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসী, পেশাজীবী সংগঠনের নেতা ও বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা।

সাইদা মুনা তাসনিম ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গত ৫২ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বৃটিশ বাংলাদেশি প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার প্রবাসীবান্ধব বিভিন্ন জাতীয় নীতিমালা গ্রহণ এবং ৩০শে ডিসেম্বরকে জাতীয় প্রবাসী দিবস ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রবাসী নাগরিকদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের কল্যাণমূলক নীতিমালা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে সদা তৎপর রয়েছে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে হাইকমিশন প্রবাসীদের মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে রেকর্ডসংখ্যক কনস্যুলার এবং ওয়েলফেয়ার সেবা প্রদান করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন। ২০২৩ সালে করোনার আগে ২০১৯-এর তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি এনভিআর, ২৫ শতাংশ বেশি এমারপি এবং ২হাজার ৫০০’র বেশি ওয়েলফেয়ার সংক্রান্ত সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে লন্ডনে থেকে ই-পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাতে তুলে দিতে পেরে হাই কমিশন গর্বিত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে প্রবাসীদের সর্বপ্রকার সহায়তা প্রদান এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাই কমিশন সদা অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

এফ.ডি.আই, রেমিট্যান্স প্রেরণ ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সিআইপি নির্বাচিত ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এই তিন ক্ষেত্রে আরও বেশি অবদান রাখতে প্রবাসীদের আহ্বান জানান।

হাইকমিশনার যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, আইন, শিক্ষকতা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত সফল এবং মেধাবী নতুন প্রজন্মের বৃটিশ ও আইরিশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করে এ বিশেষ দিনে তাদের অভিনন্দন জানান।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানের পরে হাইকমিশনার একজন বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দেন। এরপর তিনজন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্বের এনআইডি. আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে এনআইডির পাইলট প্রজেক্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করে হাইকমিশনার।

তিনি জানান, আগামী জানুয়ারি,ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে লন্ডনে পূর্ণাঙ্গ এনআইডি সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।

হাইকমিশনার বলেন, ‘এনআইডি কার্ডের জন্য বাংলাদেশি জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। প্রবাসীদের মধ্যে যাদের বাংলাদেশি জন্ম-নিবন্ধন সনদ নেই, তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করলে তাদের দ্রুত বাংলাদেশের জন্ম-নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন হতে ই-পাসপোর্ট এবং এনআইডি গ্রহণ করতে পারবেন।’

বিষয়ঃ
জনপ্রিয় সংবাদ

এনআইডি চালুর মধ্য দিয়ে জাতীয় প্রবাসী দিবস উদযাপিত

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০১:২১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জানুয়ারী ২০২৪

যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চালুর মধ্য দিয়ে ‘জাতীয় প্রবাসী দিবস ২০২৩’ উদযাপন করেছে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন।

দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার দূতাবাসে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা, বিভিন্ন কাউন্সিলের মেয়র ও কাউন্সিলররা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবাসী, পেশাজীবী সংগঠনের নেতা ও বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবাসী বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রীরা।

সাইদা মুনা তাসনিম ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা স্মরণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধসহ গত ৫২ বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বৃটিশ বাংলাদেশি প্রবাসীদের উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার প্রবাসীবান্ধব বিভিন্ন জাতীয় নীতিমালা গ্রহণ এবং ৩০শে ডিসেম্বরকে জাতীয় প্রবাসী দিবস ঘোষণার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রবাসী নাগরিকদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকারের কল্যাণমূলক নীতিমালা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে সদা তৎপর রয়েছে উল্লেখ করেন হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে হাইকমিশন প্রবাসীদের মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে রেকর্ডসংখ্যক কনস্যুলার এবং ওয়েলফেয়ার সেবা প্রদান করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডন। ২০২৩ সালে করোনার আগে ২০১৯-এর তুলনায় ৫৬ শতাংশ বেশি এনভিআর, ২৫ শতাংশ বেশি এমারপি এবং ২হাজার ৫০০’র বেশি ওয়েলফেয়ার সংক্রান্ত সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে লন্ডনে থেকে ই-পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের হাতে তুলে দিতে পেরে হাই কমিশন গর্বিত বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে প্রবাসীদের সর্বপ্রকার সহায়তা প্রদান এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হাই কমিশন সদা অঙ্গীকারাবদ্ধ।’

এফ.ডি.আই, রেমিট্যান্স প্রেরণ ও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সিআইপি নির্বাচিত ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি এই তিন ক্ষেত্রে আরও বেশি অবদান রাখতে প্রবাসীদের আহ্বান জানান।

হাইকমিশনার যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, আইন, শিক্ষকতা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত সফল এবং মেধাবী নতুন প্রজন্মের বৃটিশ ও আইরিশ প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূয়সী প্রশংসা করে এ বিশেষ দিনে তাদের অভিনন্দন জানান।

মতবিনিময় অনুষ্ঠানের পরে হাইকমিশনার একজন বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকের হাতে ই-পাসপোর্ট তুলে দেন। এরপর তিনজন বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্বের এনআইডি. আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে এনআইডির পাইলট প্রজেক্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করে হাইকমিশনার।

তিনি জানান, আগামী জানুয়ারি,ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে লন্ডনে পূর্ণাঙ্গ এনআইডি সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে।

হাইকমিশনার বলেন, ‘এনআইডি কার্ডের জন্য বাংলাদেশি জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। প্রবাসীদের মধ্যে যাদের বাংলাদেশি জন্ম-নিবন্ধন সনদ নেই, তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করলে তাদের দ্রুত বাংলাদেশের জন্ম-নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডন হতে ই-পাসপোর্ট এবং এনআইডি গ্রহণ করতে পারবেন।’