সিলেট ১২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বসারও রয়েছে নিয়ম কম্পিউটার টেবিল ও চেয়ার ব্যবহার শারীরিক শিক্ষা ক্লাস-২০২৪

আমি যখন স্কুলে পড়তাম—স্কুলের সময় ছিল সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে। আমাদের শারীরিক শিক্ষা ক্লাস থাকত। শারীরিক শিক্ষা ক্লাসে ম্যাডাম আমাদের সোজা হয়ে বসার জন্য নানাভাবে উত্সাহিত করতেন। সোজা হয়ে বসার নানা উপকার সম্পর্কেও বলতেন নিয়মিত। কিন্তু এসব কথায় আমাদের মোটেই ভ্রুক্ষেপ ছিল না।

 

সময় বদলেছে; আমার পড়ার পরিমাণ যদিও কিছু কমেছে কিন্তু চেয়ারে বসে থাকার সময় বেড়েছে, কমেনি। আগে শুধু বেঞ্চ বা পড়ার টেবিলে বসতাম কর্মজীবনে প্রবেশের পরে বই বদলে কম্পিউটার এসেছে। কাজের ধরনও বদলেছে। কিন্তু বসার ভঙ্গিতে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। ফলে আমরা নানামুখী সমস্যায় ভুগছি। বসার সময় ঘাড় ব্যথা পিঠ ব্যথাসহ নানা সমস্যায় আমরা পড়ি—এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে বসার সময় আমাদের কিছু নিয়ম মেনে বসতে হবে।

চেয়ারে বসার সঠিক নিয়ম

চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। ঘাড় বা পিঠ বাঁকিয়ে বসবেন না। টেবিলটি চেয়ার থেকে একটু দূরে রাখতে হবে যাতে বাহুগুলিও মেরুদণ্ডের সমান্তরাল হয়। নিচের পিঠ এবং চেয়ারের মধ্যে কোনো জায়গা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আপনি আপনার কম্পিউটার বা নোটবুকের সাথে যাই করেন না কেন, জিনিসগুলিকে সুবিধাজনক দূরত্বে রাখুন। চেয়ার এবং টেবিলের মধ্যে খুব বেশি দূরত্ব থাকা উচিত নয়। লেখার সময় এবং কিবোর্ড বা মাউস দিয়ে কাজ করার সময় আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত পুরো জায়গাটি টেবিলে রাখুন। দুই পা আরামে মেঝেতে রাখুন। শরীরের কোনো অংশই নড়বড়ে বা অসমর্থিত অবস্থায় রাখা যাবে না।

কম্পিউটার টেবিল ও চেয়ার ব্যবহারের বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম

আপনি যদি ওপরে বা নিচে দেখতে চান তবে আপনাকে মনিটরের উচ্চতা সামঞ্জস্য করতে হবে। এতে চোখের ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি সামনের দিকে ঝুঁকে বসার প্রবণতাও কমে যাবে। প্রাথমিক নিয়মটি হলো আপনার কনুইগুলি টেবিলে সম্পূর্ণ সমতল হওয়া উচিত। এটি হাতের স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয় এবং কব্জির ব্যথা রোধ করে।

পড়ার টেবিল ও চেয়ার ব্যবহারের নিয়ম

আপনি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী অবস্থান বজায় রাখতে বাধ্য হন তবে আপনাকে অবশ্যই অবতরণের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। এটি অঙ্গবিন্যাসের সেটিং, পাশাপাশি বাহু এবং পাগুলির অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপনার পিছনে কাত হয়ে যাওয়ার সময় টেবিলের শীর্ষে যাওয়া অগ্রহণযোগ্য। এ অবস্থানটি অনিবার্যভাবে স্লুচিং এবং পিঠে ব্যথার দিকে পরিচালিত করে। পড়ার সময় প্রবণতার কোণটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি হতে হবে।
হাত-পায়ের অবস্থান

অবস্থান ঠিক রাখতে অনেকেই শক্ত হয়ে বসেন। তবে বসার সময় কাঁধ ও পিঠ শিথিল রাখতে হবে। টেবিলে কব্জি আরামদায়কভাবে রাখা উচিত। ফলস্বরূপ, কৈশিক টানেল সিন্ড্রোম বা কব্জিতে নালীগুলি বন্ধ হয়ে যাবে। পা বাঁকা না করে মেঝেতে সমতল রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে চেয়ার ছেড়ে একটু হাঁটাহাঁটি এবং শরীর টানটান করে নিতে ভুলবেন না।

ভালোভাবে চেয়ারে বসায় করণীয়

আপনার একটি আরামদায়ক অবস্থান নিতে হবে, তবে যতই আরামদায়ক কায়দায় বসেন না কেন দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হলে মাঝে মাঝে ওঠে একটু হেঁটে নেওয়া উচিত। এতে ঝিমুনি আসে না। আর রক্ত-সঞ্চালন সঠিকভাবে হয়। নিজের কাজের সুবিধার্থে সঠিক পদ্ধতিতে বসতে হবে। তাছাড়া বসার চেয়ারও সঠিকভাবে বানাতে হবে। কারণ চেয়ারের আকার সঠিক না হলেও অনেক সময় বসা ঠিক হয় না।

জনপ্রিয় সংবাদ

বসারও রয়েছে নিয়ম কম্পিউটার টেবিল ও চেয়ার ব্যবহার শারীরিক শিক্ষা ক্লাস-২০২৪

প্রকাশিত হয়েছেঃ ০৬:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩

আমি যখন স্কুলে পড়তাম—স্কুলের সময় ছিল সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে। আমাদের শারীরিক শিক্ষা ক্লাস থাকত। শারীরিক শিক্ষা ক্লাসে ম্যাডাম আমাদের সোজা হয়ে বসার জন্য নানাভাবে উত্সাহিত করতেন। সোজা হয়ে বসার নানা উপকার সম্পর্কেও বলতেন নিয়মিত। কিন্তু এসব কথায় আমাদের মোটেই ভ্রুক্ষেপ ছিল না।

 

সময় বদলেছে; আমার পড়ার পরিমাণ যদিও কিছু কমেছে কিন্তু চেয়ারে বসে থাকার সময় বেড়েছে, কমেনি। আগে শুধু বেঞ্চ বা পড়ার টেবিলে বসতাম কর্মজীবনে প্রবেশের পরে বই বদলে কম্পিউটার এসেছে। কাজের ধরনও বদলেছে। কিন্তু বসার ভঙ্গিতে বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। ফলে আমরা নানামুখী সমস্যায় ভুগছি। বসার সময় ঘাড় ব্যথা পিঠ ব্যথাসহ নানা সমস্যায় আমরা পড়ি—এসব সমস্যা থেকে রেহাই পেতে বসার সময় আমাদের কিছু নিয়ম মেনে বসতে হবে।

চেয়ারে বসার সঠিক নিয়ম

চেয়ারে সোজা হয়ে বসুন। ঘাড় বা পিঠ বাঁকিয়ে বসবেন না। টেবিলটি চেয়ার থেকে একটু দূরে রাখতে হবে যাতে বাহুগুলিও মেরুদণ্ডের সমান্তরাল হয়। নিচের পিঠ এবং চেয়ারের মধ্যে কোনো জায়গা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আপনি আপনার কম্পিউটার বা নোটবুকের সাথে যাই করেন না কেন, জিনিসগুলিকে সুবিধাজনক দূরত্বে রাখুন। চেয়ার এবং টেবিলের মধ্যে খুব বেশি দূরত্ব থাকা উচিত নয়। লেখার সময় এবং কিবোর্ড বা মাউস দিয়ে কাজ করার সময় আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত পুরো জায়গাটি টেবিলে রাখুন। দুই পা আরামে মেঝেতে রাখুন। শরীরের কোনো অংশই নড়বড়ে বা অসমর্থিত অবস্থায় রাখা যাবে না।

কম্পিউটার টেবিল ও চেয়ার ব্যবহারের বিজ্ঞানসম্মত নিয়ম

আপনি যদি ওপরে বা নিচে দেখতে চান তবে আপনাকে মনিটরের উচ্চতা সামঞ্জস্য করতে হবে। এতে চোখের ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি সামনের দিকে ঝুঁকে বসার প্রবণতাও কমে যাবে। প্রাথমিক নিয়মটি হলো আপনার কনুইগুলি টেবিলে সম্পূর্ণ সমতল হওয়া উচিত। এটি হাতের স্ট্রেস থেকে মুক্তি দেয় এবং কব্জির ব্যথা রোধ করে।

পড়ার টেবিল ও চেয়ার ব্যবহারের নিয়ম

আপনি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী অবস্থান বজায় রাখতে বাধ্য হন তবে আপনাকে অবশ্যই অবতরণের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। এটি অঙ্গবিন্যাসের সেটিং, পাশাপাশি বাহু এবং পাগুলির অবস্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আপনার পিছনে কাত হয়ে যাওয়ার সময় টেবিলের শীর্ষে যাওয়া অগ্রহণযোগ্য। এ অবস্থানটি অনিবার্যভাবে স্লুচিং এবং পিঠে ব্যথার দিকে পরিচালিত করে। পড়ার সময় প্রবণতার কোণটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি হতে হবে।
হাত-পায়ের অবস্থান

অবস্থান ঠিক রাখতে অনেকেই শক্ত হয়ে বসেন। তবে বসার সময় কাঁধ ও পিঠ শিথিল রাখতে হবে। টেবিলে কব্জি আরামদায়কভাবে রাখা উচিত। ফলস্বরূপ, কৈশিক টানেল সিন্ড্রোম বা কব্জিতে নালীগুলি বন্ধ হয়ে যাবে। পা বাঁকা না করে মেঝেতে সমতল রাখতে হবে। মাঝেমধ্যে চেয়ার ছেড়ে একটু হাঁটাহাঁটি এবং শরীর টানটান করে নিতে ভুলবেন না।

ভালোভাবে চেয়ারে বসায় করণীয়

আপনার একটি আরামদায়ক অবস্থান নিতে হবে, তবে যতই আরামদায়ক কায়দায় বসেন না কেন দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হলে মাঝে মাঝে ওঠে একটু হেঁটে নেওয়া উচিত। এতে ঝিমুনি আসে না। আর রক্ত-সঞ্চালন সঠিকভাবে হয়। নিজের কাজের সুবিধার্থে সঠিক পদ্ধতিতে বসতে হবে। তাছাড়া বসার চেয়ারও সঠিকভাবে বানাতে হবে। কারণ চেয়ারের আকার সঠিক না হলেও অনেক সময় বসা ঠিক হয় না।